নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ভারতে নিযুক্ত ইরানের বর্তমান নেতার প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ তেহরানে টানানো একটি ব্যানারে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (বামে), ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (মাঝে) এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির ছবি। ছবি: রয়টার্স
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসরাইলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
তিনি জানান, সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ খামেনিকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকির জবাব ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার’ মাধ্যমে দেওয়া হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফনানুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন মেদভেদেভ
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ হিসাব বাস্তব হলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হবে, এর মধ্যে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি রয়েছে।
৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, এ সময় খামেনির লাশের পাশাপাশি তার জামাতা, কন্যা, পুত্রবধু (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির লাশ বহন করা হবে। পরদিন কোম শহরে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা সমাবেশ।
আরও পড়ুন: খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি
এরপর ৮ জুলাই খামেনির লাশ নেওয়া হবে ইরাকে, সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.) এর মাজারে খামেনির লাশ দাফন করা হবে।
